Banner 728x90

Wednesday, 2 October 2024

দূর্গা পূজা ২০২৪: বাঙালীর বড় উৎসব। পূজার তিথি ও মুহূর্ত (তারিখ ও সময়) দূর্গা পূজার ৭দিন আগে মহালয়া। মহালয়া কেন হয়? দূর্গা পূজার সম্পর্কে জানতে হলে দেখুন


দূর্গা পূজা ২০২৪: বাঙালীর বড় উৎসব। দূর্গা পূজার ৭দিন আগে মহালয়া। মহালয়া কী? মহালয়া কেন হয়? পূজা তিথি ও মুহূর্ত (তারিখ ও সময়)

দূর্গা পূজা বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বাঙালি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি সামাজিক উৎসবও। প্রতি বছর, এই সময়টা বাঙালির কাছে এক আলাদা মাত্রা নিয়ে আসে—খুশির উল্লাস, সাজগোজ, ঠাকুর দেখার আনন্দ, এবং পারিবারিক মিলনমেলার মুহূর্ত। ২০২৪ সালের দূর্গা পূজা কবে শুরু হবে এবং তার আগের গুরুত্বপূর্ণ দিন মহালয়া সম্পর্কে এখানে বিশদ আলোচনা করা হলো।


মহালয়া কী?

মহালয়া হল দূর্গা পূজার সাত দিন আগে পালিত একটি বিশেষ দিন। এটি বাঙালির কাছে একটি আধ্যাত্মিক দিন, যা সূচিত করে মাতৃ আরাধনার সূচনা। মহালয়ার দিনে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দূর্গার মর্ত্যে আগমনের আহ্বান জানানো হয়। এই দিনটি সাধারণত পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনার দিন হিসেবে পালিত হয়। মহালয়ার মাধ্যমে বাঙালি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দেবী দূর্গাকে বরণ করার জন্য।


মহালয়া কেন হয়?

মহালয়ার একটি আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক ভিত্তি রয়েছে। পুরাণ অনুসারে, মহালয়ার দিন দেবী দূর্গাকে তার স্বর্গীয় বাসস্থান কৈলাস থেকে মর্ত্যে (পৃথিবীতে) আমন্ত্রণ জানানো হয়। মহিষাসুর নামক অসুরকে বধ করার জন্য দেবতাদের সম্মিলিত শক্তি থেকে দেবী দূর্গার সৃষ্টি হয়েছিল। মহালয়ার দিন এই চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবীর মর্ত্যে আগমন বার্তা পাঠানো হয়, যার পরে দেবী দূর্গা তার সন্তানদের সঙ্গে মর্ত্যে আসেন এবং অসুর নিধন করেন।

পূজা তিথি ও মুহূর্ত (তারিখ ও সময়)

২০২৪ সালের দূর্গা পূজা কবে শুরু হবে এবং কোন কোন দিনে কোন তিথিতে কোন পূজা অনুষ্ঠিত হবে, তা নিচে দেওয়া হলো:

  • মহালয়া: ২ অক্টোবর ২০২৪ (বুধবার)এই দিনটি থেকে দেবীপক্ষ শুরু হয়। মহালয়ার দিন ভোরে রেডিওতে চণ্ডীপাঠ শোনার প্রথা প্রচলিত।
  • ষষ্ঠী: ৮ অক্টোবর ২০২৪ (মঙ্গলবার)দেবী দূর্গার বোধন হয় এই দিনে, অর্থাৎ দেবীকে জাগ্রত করা হয়।
  • সপ্তমী: ৯ অক্টোবর ২০২৪ (বুধবার)দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্নান। এই দিন থেকে পূজার মূল আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়।
  • অষ্টমী: ১০ অক্টোবর ২০২৪ (বৃহস্পতিবার)মহাষ্টমীর দিনে কুমারী পূজা হয় এবং সন্ধিপূজা হয়, যা দূর্গা পূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  • নবমী: ১১ অক্টোবর ২০২৪ (শুক্রবার)নবমী পূজা এবং সন্ধ্যা আরতির মাধ্যমে দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়।
  • দশমী: ১২ অক্টোবর ২০২৪ (শনিবার)বিজয়া দশমী, এই দিনে দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয় এবং মর্ত্য ত্যাগ করে কৈলাসে ফিরে যান দেবী দূর্গা।

মহালয়ার তাৎপর্য

মহালয়া কেবলমাত্র দেবীপক্ষের সূচনা নয়, এটি আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনার দিনও। এই দিন বাঙালিরা তাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে। ‘তর্পণ’ নামক বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গঙ্গার পবিত্র জলে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এটি বিশ্বাস করা হয় যে, এই দিনে পূর্বপুরুষদের আত্মা পৃথিবীতে নেমে আসে এবং তাদের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়।

মহালয়া ও চণ্ডীপাঠ

মহালয়ার সঙ্গে চণ্ডীপাঠের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। চণ্ডীপাঠ হল দেবী দুর্গার মহিমা বর্ণনা করা শ্লোকগুলোর একটি সংগ্রহ। মহালয়ার দিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ বাঙালির জীবনে একটি আবেগময় অভিজ্ঞতা। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের এই চণ্ডীপাঠ প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এক আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।




দূর্গা পূজার সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :

  1. দূর্গা পূজার ইতিহাস ও পটভূমি।
  2. মহালয়ার ঐতিহ্য এবং পুরাণসমূহ।
  3. প্রতিটি পূজার দিনের ধর্মীয় রীতি ও আচার।
  4. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক।
  5. দূর্গা পূজার সাম্প্রতিক প্রভাব ও বৈশ্বিক উদযাপন।


দূর্গা পূজার ইতিহাস ও পটভূমি

দূর্গা পূজা ভারতের একটি অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব, যা বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, ওড়িশা এবং বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে উদযাপন করা হয়। এই পূজার মূল উৎস রয়েছে প্রাচীন হিন্দু পুরাণ ও ধর্মীয় কাহিনীতে। কাহিনী অনুসারে, মহিষাসুর নামে এক শক্তিশালী অসুরের অত্যাচার থেকে বিশ্বকে মুক্ত করার জন্য দেবী দূর্গা সৃষ্টি হয়েছিলেন। মহালয়া থেকে শুরু করে দশমী পর্যন্ত চলা এই পূজার ইতিহাস হাজার বছরের পুরানো এবং এটি হিন্দু ধর্মের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।


মহালয়ার ঐতিহ্য এবং পুরাণসমূহ

মহালয়া হলো দূর্গা পূজার প্রথম দিন, যা সাধারণত মহালয়া অমাবস্যার দিনে পালিত হয়। এই দিনে পিতৃতর্পণ করা হয়, যার মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের আত্মাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পুরাণ অনুসারে, মহালয়ার দিন ভগবান বিষ্ণু মহিষাসুরকে পরাজিত করার জন্য দেবী দূর্গাকে শক্তি দেন এবং তিনিই অসুরকে বিনাশ করেন। মহালয়ার দিন ভোরবেলা চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দূর্গার আগমন ঘোষণা করা হয়, যা এই দিনটির ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে।

প্রতিটি পূজার দিনের ধর্মীয় রীতি ও আচার

দূর্গা পূজা মোট পাঁচ দিনব্যাপী পালিত হয় - ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, ও দশমী।
  • ষষ্ঠী: দেবীর বোধন হয় এবং তাঁর প্রতিমা স্থাপন করা হয়।
  • সপ্তমী: নবপত্রিকা স্নান ও দেবীর পূজার মূল আচার শুরু হয়।
  • অষ্টমী: মহাষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজা এবং সন্ধিপূজা করা হয়, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  • নবমী: দেবীর নবরূপের আরাধনা করা হয় এবং বলিদান দেওয়া হয়।
  • দশমী: বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার সমাপ্তি ঘটে এবং সিঁদুর খেলার মাধ্যমে আনন্দের প্রকাশ করা হয়।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক

দূর্গা পূজা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালি সমাজের অন্যতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসাবেও পরিচিত। পূজা প্যান্ডেল, প্রতিমা দর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ-গান, নাটক এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পূজাকে একটি বিশাল সামাজিক মিলনমেলার রূপ দেয়। শিল্পকলা এবং সৃজনশীলতার উৎসব এই পূজা অনেক সময় সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ারও মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

দূর্গা পূজার সাম্প্রতিক প্রভাব ও বৈশ্বিক উদযাপন

সম্প্রতি, দূর্গা পূজার উদযাপন ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যেখানে বাঙালি সম্প্রদায় রয়েছে, সেখানেই এই উৎসব অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে উদযাপন করা হয়। কলকাতার পূজা এখন ইউনেস্কো থেকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা এই উৎসবের বৈশ্বিক পরিচিতিকে আরও বাড়িয়েছে।

No comments:

Post a Comment