Banner 728x90

Sunday, 22 September 2024

Chandrayaan-3 (চন্দ্রযান-৩: বিস্তারিত জানুন )

Chandrayaan-3 Learn more



চন্দ্রযান-৩: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার একটি নতুন অধ্যায়


ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) চন্দ্রযান-৩ মিশন নিয়ে পুনরায় চাঁদের দিকে পা বাড়িয়েছে। চন্দ্রযান-২ এর পরবর্তী উন্নত সংস্করণ হিসেবে, এই মিশনের লক্ষ্য শুধুমাত্র চাঁদের পৃষ্ঠে সফলভাবে অবতরণ করাই নয়, বরং চাঁদের মাটিতে নানা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোও। চন্দ্রযান-৩ মিশন ইসরো-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যা মহাকাশে দেশের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

চন্দ্রযান-৩ এর মূল উপাদান:

চন্দ্রযান-৩ মূলত তিনটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত: ল্যান্ডার মডিউল (LM), প্রপালশন মডিউল (PM), এবং একটি রোভার। এই মডিউলগুলি আন্তঃগ্রহ গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি প্রদর্শন ও উন্নয়নে সাহায্য করবে।

  1. ল্যান্ডার মডিউল (LM): ল্যান্ডারের মূল কাজ চাঁদের নির্দিষ্ট স্থানে নরমভাবে অবতরণ করা এবং রোভারকে চাঁদের মাটিতে মুক্তি দেওয়া। এতে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি যেমন লেজার ও RF ভিত্তিক অল্টিমিটার, ভেলোসিমিটার, এবং বিপদ সনাক্তকরণ ক্যামেরা।
  2. প্রপালশন মডিউল (PM): এটি ল্যান্ডারকে চাঁদের 100 কিলোমিটার কক্ষপথ পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে। PM-এর একটি বৈজ্ঞানিক পেলোডও রয়েছে যা ল্যান্ডার আলাদা হওয়ার পর কাজ করবে।
  3. রোভার: রোভারটি চাঁদের মাটিতে চলাচল করবে এবং ইন-সিটু রাসায়নিক বিশ্লেষণ করবে।

মিশনের লক্ষ্য:
  1. চাঁদের মাটিতে নিরাপদ অবতরণ: চন্দ্রযান-৩ এর প্রধান লক্ষ্য চাঁদের নির্দিষ্ট অঞ্চলে নিরাপদ ও নরমভাবে ল্যান্ড করা।
  2. চাঁদের উপর রোভারের চলাচল প্রদর্শন: চাঁদের মাটিতে রোভারটি কিভাবে চলবে এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করবে তা প্রদর্শন করা।
  3. বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা: ল্যান্ডার এবং রোভার উভয়েই চন্দ্রপৃষ্ঠের ইন-সিটু বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাবে।

উন্নত প্রযুক্তি:

চন্দ্রযান-৩ ল্যান্ডার মডিউলে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে:অল্টিমিটার: লেজার ও RF ভিত্তিক।
  • বিপদ সনাক্তকরণ ক্যামেরা: অবতরণের সময় বিপদ সনাক্ত করতে ব্যবহৃত।
  • প্রপালশন সিস্টেম: 800N থ্রটলেবল লিকুইড ইঞ্জিন।
  • নেভিগেশন ও গাইডেন্স: নিরাপদ অবতরণে সাহায্য করার জন্য উন্নত সফটওয়্যার।

চন্দ্রযান-৩ এর সাফল্যের জন্য করা পরীক্ষাগুলি:
  • ইন্টিগ্রেটেড কোল্ড টেস্ট: হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ল্যান্ডারের সেন্সর ও নেভিগেশন ক্ষমতা পরীক্ষা।
  • ইন্টিগ্রেটেড হট টেস্ট: টাওয়ার ক্রেন ব্যবহার করে ল্যান্ডারের সেন্সর, অ্যাকুয়েটর ও অন্যান্য উপাদানগুলির কার্যকারিতা পরীক্ষা।

মিশনের গুরুত্ব:

চন্দ্রযান-৩ এর সফলতা ইসরো-এর প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদর্শন করবে এবং ভারতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই মিশন কেবলমাত্র চাঁদের গবেষণা নয়, বরং ভবিষ্যতে আন্তঃগ্রহ মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন প্রযুক্তির উন্নয়নেও সাহায্য করবে।

চন্দ্রযান-৩ মিশন ইসরো-এর এক নতুন সাফল্যের পথ দেখাবে এবং ভারতীয় মহাকাশ গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

No comments:

Post a Comment